আজ আমার বিয়ের দিন।
চারদিকে আলো, মানুষের ভিড়, হাসি…
সবকিছু যেন নিখুঁত একটা ছবি।
তবুও আমার ভেতরে অদ্ভুত এক শূন্যতা।
কারণ এই বিয়েতে ভালোবাসা নেই।
শুধু একটা চুক্তি আছে।
আমি রিমু
আজ আমি আমার নিজের ইচ্ছায় না—পরিস্থিতির কারণে বিয়ে করছি।শুধু পরিবারের কথা ভেবেই বিয়েটা করছি।
"তুই ঠিক আছিস তো?"
আমার বান্ধবী নরম গলায় বলল।
আমি আয়নার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসলাম।
"হ্যাঁ… আমি ঠিক আছি।"
কিন্তু আমরা দুজনেই জানতাম—আমি মিথ্যা বলছি।
বিয়েটা খুব বড় করে হলো।
সবাই খুশি।
সবাই বলছে আমি ভাগ্যবতী।
কারণ আমি বিয়ে করেছি আরিয়ান খানকে—
একজন ধনী, প্রভাবশালী, আর রহস্যময় মানুষ।
কিন্তু কেউ জানে না…
এই সম্পর্কের সময়সীমা মাত্র এক বছর।
রাত অনেক হয়ে গেছে।
আমি ধীরে ধীরে নতুন ঘরে ঢুকলাম।
ঘরটা অদ্ভুতভাবে চুপচাপ।
এত বড় বাড়ি… তবুও যেন কোথাও কেউ নেই।
আমি বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম।
হঠাৎ দরজার শব্দ।
আমি চমকে পিছনে তাকালাম।
সে এসেছে।
আরিয়ান।
তার চোখে কোনো উষ্ণতা নেই।
শুধু ঠান্ডা, হিসেবি একটা দৃষ্টি।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে থামল।
"এই বিয়েটা একটা agreement," সে শান্ত গলায় বলল।
"Feelings জড়ানোর দরকার নেই।"
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম।
কিছুক্ষণ পর সে বলল,
"আমার কিছু কাজ আছে। আমি বাইরে যাচ্ছি।"
আমি অবাক হলাম।
"এখন?"
সে আর কিছু না বলে বেরিয়ে গেল।
সময় কেটে যাচ্ছিল…
কিন্তু আমার চোখে ঘুম আসছিল না।
মনে হচ্ছিল—এই বাড়ির ভেতরে কিছু একটা ঠিক নেই।
অবশেষে আমি দরজা খুলে বাইরে বের হলাম।
করিডোরটা ফাঁকা।
চারদিকে নিস্তব্ধতা।
হঠাৎ নিচ থেকে হালকা একটা শব্দ ভেসে এলো।
আমার বুক ধক করে উঠল।
আমি ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগলাম।
প্রতিটা পা ফেলতেই ভয়টা আরও বাড়ছিল।
নিচে পৌঁছে আমি থেমে গেলাম।
অন্ধকারের মধ্যে একটা দৃশ্য পরিষ্কার হয়ে উঠল।
একজন মানুষ মেঝেতে পড়ে আছে…
নড়ছে না।
আর তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে—
আরিয়ান।
তার হাত থেকে ধীরে ধীরে রক্ত ঝরছে।
আমার নিঃশ্বাস আটকে গেল।
ঠিক তখনই সে মুখ তুলে আমার দিকে তাকাল।
আমাদের চোখে চোখ পড়তেই…
তার ঠোঁটে একটা অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল।
"তুমি এখানে কেন?" সে শান্তভাবে বলল।
আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না।
সে একটু এগিয়ে এলো।
তার চোখে ভয়ংকর এক ঠান্ডা ভাব।
"এখন যেহেতু দেখেছো…"
সে ফিসফিস করে বলল,
"পিছিয়ে যাওয়ার আর সুযোগ নেই।তাহলে শোনো মাঝে মাঝেই আামাকে এই অবস্থাাই দেখতে হতে পারে কিন্তু আমাকে তুমি কোনো প্রস্ন করতে পারবেনা কারন তোমার সাথে আমার বিয়েটা শুধুই চুক্তি। তুমি থাকবে, খাবে, ঘুমাবে।কোনোকিছুর দরকার হলে বাড়িতে পিনুদা আছে সে আমার বাড়ির কাজের লোক, তাকে বলবে সে এনে দেবেআর বিয়ের চুক্তি শেষ হলে চলে যাবে।মনে রেখ আমার মায়ের কথা রাখার জন্য তোমাকে বিয়ে করা। তা না হলে তোমার মতো মেয়েকে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছিেই ছিলনা।তখনই রিমু কম্পত কন্ঠে বলে উঠল আমি আপনাকে কখনই কিছু প্রস্ন করবনা আমি একটা শব্দ শুনে ভয়পেয়ে নিচে ছুটে এসেছি বুঝিনি এখানে এসে আপনাকে দেখতে পাব।sorry আমি এখনি চলে যাচ্ছি।আরিয়ান মুচকি হেসে বলল, অনেক রাত হয়েছে ভয় নেই ঘরে ফিরে যাও।আজ আমি রাতে এখানে এই ছোফাতেই ঘুমাব।তা শুনে রিমু মাথা নেরে ঘরে চলে গেল।কিন্তু সে মনে মনে ঠিক করে নিল এই মানুষটিকে আমি একদিন সঠিক পথে নিয়ে আসবই।এটা আমার চ্যালেন্জ
আরিয়ান – একজন কিলার ছেলে, যার জীবন কঠোর ও অন্ধকার।পরের দিন সকালে
রিমু বাগানে বসে, ভাবছে নতুন জীবন নিয়ে।
রাহুলের মা মেহেরকে কিছু নিয়মাবলী বোঝাচ্ছেন।
মা: "আমার ছেলে এক বছরের জন্য বিয়ে করেছে। তুমি থাকো, শিখো। এক বছর শেষ হলে সব ঠিক হবে।"আমার বিশ্বাস এই এক বছরের মধ্যই তুমি আমার ছেলেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবে।
রিমু; "আমি জানি এটা চুক্তি। কিন্তু আমি চাই, আমরা একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করব।
আরিয়ান কিছু লোককে দূর করতে গিয়েছিল (কিলিং ইঙ্গিত), মেহের দেখছে।
মেহের ভিতরে আতঙ্কিত,তার আবার সেই রাতের কথা মনে পরছে,হাতে সেই রক্ত কিন্তুএবার সে তার সাহস দেখায়।সে মনে মনে বলে "আমাকে এই মানুষটিকে পরিবর্তন করতেই হবে
আরিয়ান (চুপচাপ, কিন্তু চোখে অদ্ভুত আলো): "দেখছো না, আমার জীবনটা ছন্নছারা এলোমেলো , সেটা তোমার জন্য নিরাপদ নয়। তুমি নিরাপদ থাকো শুধু।"এ কথা বলে আরিআন রিমুর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।তার চোখের চাওনিতে যেন নরমআলো দেখা যাই।
আরিআন একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত, রিমু হঠাৎ পাশে হাজির।রিমু তার পাশে দাঁড়ায়।সে হঠাৎ বলে ওঠে মানুষ মারা মহাপাপ তোমাক আগে কেও বলেনি নাকি সাহস করে কেও তোমার কাছে এসে বলার সুযোগ পাইনি।আজ আমি ভয় পাবনা যদি মারতেই হয় তাহলে আমাকে আগে মার।
আরিআন: "আমি সবকিছু হারাতে পারি, কিন্তু তুমি… তুমি বিশেষ।"
রিমু: "আমি চাই তুমি নিজের জন্য মানুষ হয়ে ওঠো। অন্য কারোর জন্য নয়।"
আরিআন ধীরে ধীরে নরম হচ্ছে।, রিমু শুধু ভালোবাসার জন্য নয়, আরিআনকে মানুষের মতো মানুষে পরিণত করছেআরিআন সবকাজে রিমুকে পাশে পেয়ে ধীরে ধীরে সে ভালো মানুষে রূপান্তরিত হতে থাকে।ধীরে ধীরে সে এই এক বছরেই যেনো একজন রিয়েল প্রেমিক হয়ে ওঠে।তারপর আরিআন বলে, "আমি জানতাম না ভালোবাসা কি। তুমি আমাকে শিখিয়েছ। তুমি ছাড়া আমি আর কেউ নই।"
রিমু (হাসি দিয়ে): "তুমি শুধু আমার স্বামী নও, তুমি আমার জীবনের রূপান্তর।"
রাহুল নিজের মা ও মেহেরের পরিবারকে দেখায় যে সে পরিবর্তিত।তার মা আনন্দে বলে আমি এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।আমার এই মেয়ের ওপর সম্পূন বিশ্বাস ছিলো।আজ তুমি সত্যিকারের মানুষ হয়ে গেছো।"
আরিআন বলল "হ্যাঁ, আজ তোমার এই চুক্তিকারের বিয়ে ও তোমার বোমার ভালোবাসার জন্য আমার জীবনের পরিবর্তন।"তোমার এই বোমাকেএক বছরের জন্য নই সাত জনমের জন্য আমার বৌ করে রাখতে চাই।তোমার এই বখাটে ছেলে আজ তার জীবনের মূল্য বুঝতে পেরেছে। এবার সবাই একসাথে একটি অট্টহাসি দিয়ে গল্পটি শেষ হয়ে গেল
