Hello everyone,,
Writing
মেয়েটার নাম ছিল নীলা। ছোটবেলা থেকেই সে খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। কিন্তু তার এই নীরবতা কেউ কোনোদিন বোঝার চেষ্টা করেনি।
বাবার বাড়িতে সে ছিল "বোঝা"—
"মেয়েকে তো একদিন পরের ঘরে চলে যেতেই হবে" — এই কথাটা সে এতবার শুনেছে যে একসময় মনে হয়েছিল, এই বাড়িটা কখনোই তার ছিল না। ভাইয়ের জন্য নতুন জামা, নতুন স্বপ্ন—সবকিছু সহজেই এসে যেত। আর নীলার ভাগে আসত শুধু দায়িত্ব আর চুপ করে থাকা।
তার একটা স্বপ্ন ছিল—নিজের মতো করে বাঁচবে, পড়াশোনা করবে, নিজের পরিচয় বানাবে। কিন্তু সেই স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে ঘরের কোণায় জমে থাকা ধুলোর মতো হয়ে গেল।
বিয়ের দিন সবাই খুব খুশি ছিল। নীলাও হাসছিল, কিন্তু সেই হাসির ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক অজানা ভয়।
সে ভেবেছিল, হয়তো এবার একটা "নিজের বাড়ি" পাবে।
কিন্তু বিয়ের পর বুঝল—
এখানেও সে "অন্যের"।
শ্বশুরবাড়িতে তার পরিচয় শুধু "কারো স্ত্রী"।
তার পছন্দ-অপছন্দ, তার ক্লান্তি, তার কষ্ট—এসবের কোনো দাম নেই।
সে যদি ক্লান্ত হয়, সেটা দায়িত্ব।
সে যদি কাঁদে, সেটা দুর্বলতা।
রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে, নীলা জানালার পাশে বসে চুপচাপ কাঁদত।
তার সেই কান্নার কোনো শব্দ ছিল না—
বোবা কান্না।
কারণ সে জানত, এই কান্না কেউ শুনবে না।
একদিন তার মা ফোনে জিজ্ঞেস করেছিল,
"কেমন আছিস মা?"
নীলা একটু চুপ করে থেকে বলেছিল,
"ভালো আছি।"
এই "ভালো আছি" কথাটার ভেতরে কতটা না বলা কষ্ট লুকিয়ে ছিল, সেটা কেউ বুঝল না।
নীলা তখন বুঝে গেছে—
মেয়েদের সত্যিই কোনো বাড়ি থাকে না।
তারা জন্মায় এক ঘরে, বড় হয় আরেক ঘরের জন্য,
আর শেষ পর্যন্ত কোথাও পুরোপুরি নিজের হয় না।
তবুও নীলা একদিন আয়নায় নিজেকে দেখে আস্তে করে বলল—
"আমি শুধু কারো বোঝা না… আমি একজন মানুষ।"
সেদিন তার চোখে পানি ছিল,
কিন্তু সেই পানির ভেতরে প্রথমবারের মতো একটা ছোট্ট আলো জ্বলছিল—
নিজেকে খুঁজে পাওয়ার আলো।
Next part👉
