#পর্বসংখ্যা৬
#হ্রদয়ামিলন
#shavakhan
"Don't dare to shout on me,
Don't be dare,Mr.Ranbir Jaowan"
একটা চিৎকার, চারদিক কেমন নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে, সাউন্ড প্রুফ থাকার কারণে দেওয়ালে বাড়ি খেয়ে মনে হচ্ছে আরজের কানে শব্দগুলো বারবার বাজছে। সে এবার অবাকের চরম শীর্ষে, কেননা সানা আজ পর্যন্ত চিৎকার তো দূর , উঁচু গলায় ও কথা বলেনি। সে একটু দমে গেল সানার এই রূপ তার কাছে নতুন,
-"সানা, হোয়াটস রং উইথ ইউ? সকাল থেকেই তুমি এমন অদ্ভুত বিহেভ কেন করছ?
-"অদ্ভুত! তাই নাকি? ও... আচ্ছা... কিন্তু এটাই যে আমার আসল রূপ।
আরজে বুঝতে পারছে না সানা কি বলছে। কপালে ভাজ পড়ে তার কয়েকটা,
-" মানে! আমি বুঝতে পারিনি কীসের রূপ?
সানা অদ্ভুতভাবে হাসছে,
-"বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা"
সানা হামি তুলে বলে,
-"গুড নাইট"
এই বলে সে চলে যেতে নে, আর জে তার পিছন যেতে যেতে নিজের ক্রোধ ভিতরে চেপে, শীতল ও স্থির কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
-"তুমি কি রেস্টুরেন্টে কোন ছেলের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলে?
সানা পিছন ফিরে তাকানোর প্রয়োজন বোধও করছে না। সানার এই খামখেয়ালী আরজের পছন্দ হচ্ছে না। সানাকে কিছু বলতে না দেখে শক্ত কণ্ঠে কিছু বলবে তার আগে সানা তার রুমে ঢুকে। আরজে ঢুকতে নিবে ঠিক ঐ সময় সানা আরজের মুখের উপরে জোরে শব্দ করে দরজা ঠাস করে লাগিয়ে দে। এমনভাবে আরজের মনে হলো, কেউ যেন তার মুখের উপর একটা ঠাস করে থাপ্পর মারলো। তার আত্মসম্মানে লাগলো বিষয়টা। সে এবার গর্জে উঠলো,
-"সানা..... ইউ ইডিয়েট, আই সেইড ওপেন দা ডোর. রাইট নাউ।"
কিন্তু ওই দিক থেকে কোন আওয়াজ আসছে না। আরজে আরও পাঁচ মিনিট এভাবে সানাকে ডাকতে থাকে। সানা দরজা না খোলাতে সে রাগে রি রি করতে করতে চলে যায় নিজের রুমে। এমনিতেই আজকাল সে সানা কে বুঝতে পারছে না। এখন যদি উল্টোপাল্টা কিছু বলে রাগের মাথায় তাহলে না জানি এই মেয়ে আবার কি কাণ্ড করে বসে।
এদিকে সানা দরজার কপাটে কান লাগিয়ে রেখেছে। আরজে বাহিরে কি কি বলছে তা শোনার জন্য। ঠোঁটে বাঁকা হাসি, যখন আর কোন আওয়াজ আসছিল না তখনই সরে আসে,
-"শালা জাউরা কোথাকার, শুধু একবার কম্পিটিশনে জিতে নেই, তারপর তোর সাথে তোর পুরো গুষ্টির মুখে আমি ঝামা ঘসবো। আর ওই কালনাগিনীর চুল ছিড়ে ওইগুলো দিয়ে শাক রান্না করে খাওয়াবো"
সানা গিয়ে এসপিকে কল করে। কিন্তু বারবার একই কথা ভেসে আসছে, 'নাম্বারটি ব্যস্ত'। সানা ভালো করেই জানে নিশ্চিত কোন মেয়ের সাথে কথা বলছে। সানা এবার মেসেজ পাঠায়,
-"বাবা বিটকেল... তুমি যদি আগামী তিন সেকেন্ডের মাঝে কল না উঠাও তাহলে রাক্ষসী রানী কটকটি তোমার ঘাড় মটকাবে।"
এসপি মেসেজ পেয়ে কাল বিলম্ব না করে সানা কে কল ব্যাক করে। কল হওয়ার সাথে সাথে ভেসে আসে কর্কশ শব্দ,
-"সত্যি করে বল তোর গার্লফ্রেন্ড কয়টা? "
-"আরে সব টাইম পাস কোন সিরিয়াস নাই"
-"গুলি মার তোর টাইমপাসে। আচ্ছা এখন এসব ছাড়, তোর কাছে আমার কিছু ডিজাইন আছে ওইগুলো পাঠা আর আমার ইনফরমেশন গুলো রেডি কর।"
-"যথা আজ্ঞা রাক্ষসী রানী কটকটি, এই বিটকেল তো আপনার সেবায় মনোনীত"
এইভাবেই চলতে থাকে তাদের খুনসুটি।
_______________
আর যে রুমে এসে আধা ঘন্টা যাবত ঠান্ডা পানি দিয়ে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে। তার টক্সিক মস্তিষ্কে এখনো শুধু চলছে রেস্টুরেন্টের কথা। বারবার মনে হচ্ছে এটা সানাই ছিল। তার পরনে শুধু একটা ট্রাউজার। আরজে কবার্ট থেকে তার পাঞ্চিং গ্লাভস গুলো তুলে নিয়ে ব্যালকনিতে চলে যায়। সেগুলো এক জায়গায় রেখে দেয়। বেলকনির একপাশে ঝুলে থাকা পাঞ্চিং ব্যাগটা স্থির দাঁড়িয়ে আছে। আরজে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে যায়। তার চোখ দুটো জ্বলে উঠছে রাগে, কষ্টে দমিয়ে রাখা অনুভূতির দহনমেখে। পরের মুহূর্তে তার মুষ্ঠি আগুনের মত লাফিয়ে ওঠে ব্যাগে আছড়ে পড়ে 'ধাম' শব্দে পুরো রুম কেঁপে ওঠে। হাতের শিরা গুলো ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা সাপের মতো দৌড়ায়। তার কাঁধ থেকে কব্জি পর্যন্ত প্রতিটা অংশে রাগের কম্পন স্পষ্ট। মনে হচ্ছে সে ব্যাগ নয় নিজের ভিতরে রাগ ক্ষোভ আর অপমান কে আঘাত করছে। সে চিৎকার করে ওঠে,
-"হুয়াই আই কান্ট কন্ট্রোল দিস ইডিয়েট মাইন্ড "
এই মুহূর্তে তার এই রুপ দেখে যে কেউ ভয় পেতে বাধ্য। এটাই তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, যা পৃথিবীর কাউকে সে দেখাতে চায় না। তাই সবার সামনে সে থাকে শান্তশিষ্ট ভাবে নিজেকে কন্ট্রোল করে, কিন্তু দিন শেষে এই মস্তিষ্ক তার পিছু ছাড়ে না। আরজে নিজের চুল টেনে ধরে, কিছুক্ষণ পর চলে যায় পাশের রুমে, এটাই একমাত্র উপায়।
____________
সকালের সূর্যের আলো সানার চোখে মুখে আঁচড়ে পড়তেই সানা হামি তুলতে তুলতে উঠে বসে। দুই মিনিট ওভাবেই বসে থাকে। চারদিকে তাকিয়ে দেখে, সারা বিছানা জুড়ে তার ডিজাইন করা পেপারগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সানা এগুলো কুড়িয়ে তুলে এবং ফ্রেশ হয়ে বাহিরে আসে। সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে যাওয়ার সময় দৃষ্টিতে পড়ে ঈশানী আসছে। তার ফ্ল্যাট নিচ তলায় একই বিল্ডিংয়ে। হাঁটছে কিছুটা পা টেনে টেনে, কিছু পলক পরেই ঈশানী হঠাৎ খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে। সানা বুঝতে পারছে না, কাল সে ইচ্ছে করে নিজেই জোরে ধাক্কা দিয়েছিল, কিন্তু এতটা ব্যথা পাবার মত করেও দেয়নি। তখনই সানার কানে আসে পিছন থেকে কিক্ করে দরজা বন্ধ করার শব্দ। মুহূর্তেই বুঝে পেলে ঈশানীর কাণ্ডকারখানা। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে বাঁকা হাসি,
-"মাই ডিয়ার কালনাগিনী, সানা ইজ কামিং।"
____________
নিকষ কালো প্রিমিয়াম স্যুট এর সাথে ক্রিম্প সাদা শার্ট আরজে কে আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে। টাইটি সিল্ক বাঁধনে, না আছে জাঁকজমক, কিন্তু রয়েছে পরিমিত সৌন্দর্য। তার কব্জিতে মেটালিক স্টাম্পার ঘড়ি, সেকেন্ড হ্যান্ড টিকটিক শব্দ ও যেন বিশেষ কোনো ছন্দ বহন করছে।
সানার নাকে তীব্রভাবে খুবই কাছ থেকে কফি উডের এর সাথে ভ্যানিলার স্মেইল আসছে । সানা পিছন ফিরে নিজের রুমে যাওয়ার আগেই একটা শক্ত হাত তার কোমর থেকে পেট জড়িয়ে ধরে। সানা অবাক হয় না। কারন সে জানে এটা কে। আরজে নিজের মুখটাকে সানার কানের কাছে নিয়ে আসে। তার গরম নিঃশ্বাস সানার কানে আছড়ে পড়ে। শোনা যায় একটা গম্ভীর ও হাস্কিস্বর,
-"জাস্ট উইশ, ওটা তুমি না হও। তাহলে এটা কেবল শুরু"
ব্যাস সানা কে ছেড়ে তার পাশ কাটিয়ে চলে যায়। সানা ও মুখ বাকিয়ে বলে,
-"হোয়াটএভার, সানা কাউকে ভয় পায় নাকি।"
সানা হাত দিয়ে নিজের কাধ ঝেড়ে, একটা মুচকি দিয়ে উল্টো ঘুরে নিজের রুমে চলে যায়।
________________
ডাইনিং টেবিলে রোজকার মতো আরজে বসার পর ঈশানী তার পাশে বসে পড়ে। আর বলতে থাকে,
-"আরজে তুমি জানো, কালকে কেউ আমাকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল, আমি পায়ে ভীষণ ব্যথা পেয়েছি।"
আরজের থেকে একটু সিম্পীতি পাওয়ার আশায় ঈশানী উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। আরজে কিছু বলবে তার আগেই সানা তাদের পাশ কাটিয়ে কিচেনে চলে যায়। কানে তার আজকেও হেডফোন, চলছে 'পিঙ্ক লিপস্' গান। আরজে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর সানা ফিরে আসে, হাতে তার নিজের পছন্দের চা আর পরোটা। ঈশানী তাকে দেখেই মুখ বাকিয়ে নে। সে পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত খাবার কাউকে খেতে দেখেনি। আরজে আর ঈশানীর বিপরীত পাশে বসে সে। সানা চুপচাপ বসে খেতে থাকে আর গানের তালে তালে মাথাটা একটু দুলাতে থাকে। একটু পর মালা ঈশানীর খাবার নিয়ে আসে। ঈশানী সানাকে জ্বালানোর জন্য আরজের সাথে গায়ে পরে কথা বলছে, আর এটা ওটা দিতে বলছে। আরজে কিছুর উত্তর দিচ্ছে তো বেশিরভাগ চুপ করেই আছে। আরজের দৃষ্টি সানার দিকে স্থির। কিন্তু সানা চোখ তুলেও তাকাচ্ছে না তাদের দিকে। সে এক মনে খেয়েই চলছে যেন সে, চা আর পরোটা ছাড়া আশেপাশে আর কিছুই নেই। একটু পর সানা ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে গণনা শুরু করে থ্রি, টু, ওয়ান, সাথে সাথে ভেসে আসে ঈশানীর ঘর কাঁপানো চিৎকার
-"আহ....."
_____________
-"তাহলে ওটা তুই ছিলি, যে আমাকে ধাক্কা দিয়েছিল?"
-"আরে বাহ! আমি তো ভেবেছিলাম তোর টপ ফ্লোর একদম খালি। এখন তো দেখছি একটু ব্রেইন ও আছে।"
-"যদি আমি আরজেকে বলে দিই?"
-"ওহ নো😱! আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছি। আবে কালনাগিনী তোকে বলতে হবে না, আমি করে দেখাচ্ছি তো আবার.....
-------------
