#পর্বসংখ্যা৫
#হ্রদয়ামিলন
#Shavakhan
সানার ছোটবেলা থেকেই ডিজাইনের প্রতি ছিল বিশেষ ঝোঁক। তার বাবার এগুলো একদম পছন্দ ছিল না। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ফ্যাশনের উপর কিছু হওয়া। তাই যখন সে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছিল তখন এসপি আর তার মায়ের সহায়তায় 'জিও ফ্যাশন একাডেমিতে' ভর্তি হয়। এই ব্যাপারে এসপি আর তার মা ছাড়া কেউই জানতো না। বাবাকে সে ভীষণ ভয় পেত। বাবার জন্য সে একাডেমিতে নিজের নাম চেঞ্জ করে 'সিমরান খান' নিয়ে দুই বছর ক্লাসও করে। একাডেমির হেড ছিল তুর্কির বিখ্যাত ডিজাইনার 'সোনা প্র্যাকটিস'। মাত্র দু বছরেই নিজের যোগ্যতা দিয়ে সবার দৃষ্টিতে চলে আসে সানা। কিন্তু বিয়ের পর আর ক্লাস করা হয়নি। সানা আর এসপি এখন সেখানেই যাচ্ছে।
সোনা প্র্যাকটিসের সামনে সানা বসে আছে, পাশেই এসপি চারদিকে তাকাতে ব্যস্ত। ভদ্রমহিলা সানাকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছেন। সানা তার ফেভারিট স্টুডেন্ট ছিল। ক্লাসে দুষ্টুমিতে তার নামে অভিযোগের শেষ না হলেও প্রতিটা কম্পিটিশনে ফার্স্ট হত। কিছুক্ষণ পর তিনি নিজেই বলতে আরম্ভ করলেন,
-"এতদিন কোথায় ছিলে তুমি সিমরান?"
-"ম্যাম ফ্যামিলি ইস্যু ছিল"
-"তাই বলে এক বছর! তুমি একটু যোগাযোগও করতে পারতে"
-"সরি ম্যাম"
মিস প্র্যাকটিস দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন।তিনি সিমরানের মতো একজন ব্রাইট স্টুডেন্ট কে হারাতে চান না।তাই সানাকে আশ্বাস দিয়ে বললেন,
-"দেখো তোমাকে আবার কোর্স শুরু থেকে শুরু করতে হবে। কিন্তু তোমার জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ আছে। তিন মাস পরে 'ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন উইক' তুর্কিতে।তুমি একজন ব্রাইট স্টুডেন্ট। সে হিসেবে আমি তোমাকে একটা সুযোগ দিতে পারি। সেখানে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানি পার্টিসিপেট করবে। তুমি যদি এখন কোন কোম্পানি থেকে পার্টিসিপেট কর, তাহলে ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে কাজ করতে পারবে।"
-" ম্যাম আমি কি এখন কোম্পানিতে ট্রাই করবো?"
-"না এখন তুমি আবার ক্লাস শুরু কর। আর আমাকে তোমার কয়েকটা অথেন্টিক ডিজাইন দিবে। আমি বিভিন্ন কোম্পানিতে এগুলো পাঠাবো যদি ওদের পছন্দ হয় তাহলে ওরা তোমাকে নিজেই চুজ করবে।"
-"ওকে ম্যাম, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি কাল বা পরশু থেকে ক্লাস স্টার্ট করব।"
-"ইটস মাই প্লেজার, বাচ্ছা।"
সোনা প্র্যাকটিসের সাথে কথা বলে সানা আরএসপি বেরিয়ে পরে।
_________________
ঈশানীর শুট শেষ হয় বারোটার পর। তখন থেকেই আরজের পিছনে পড়ে আছে, সে আরজের সাথে 'দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা' রেস্টুরেন্টে যেতে চায়। আরজে কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না। এসব মানুষের ভিড় ওর একদম পছন্দ না। শেষমেষ ঈশানী বাধ্য হয়ে জানায় কোন সিকিউরিটি ছাড়া শুধুমাত্র আরজে, ঈশানী আর রওনাক সিক্রেটলি যাবে। কেউ জানবে না। অগত্যা রাজি হতে হয় আরজে কে। তারা 'দ্যা ওয়েস্টিন ঢাকা' রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরে।
__________________
গাড়িতে সানা যখন এসপিকে আজকে রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর কথা বলেই তখনই এসপির মনে বোম ফাটে। গভীর সন্দেহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
-"তুই সত্যিই খাওয়াবি?"
সানা বিরক্তি সূচক দৃষ্টি ফেলে বলে,
-"কেন আমি তোকে কখনো খাওয়াইনি নাকি?"
এসপি ভাবছে, না তার মনে পড়ছে না সানা কখন তাকে লাস্ট খায়িয়েছে। সানার দিকে তাকাতেই সানা বুঝে ফেলল এসপির চাহনির মানে। সানা কিছু মুহূর্তে চুপ থেকে শুধালো,
-"যাহ আজ তুই যেই রেস্টুরেন্টে বলবি ওই রেস্টুরেন্টই খাওয়াবো। কারণ আজ আমি ভীষণ খুশি।"
এসপি সাথে সাথেই জানায়,
-"আমি ঢাকার বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট দ্য ওয়েস্টিন ঢাকাতে খেতে চাই।"
এসপি আর সানাও সেই রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে যায়।
______________
রেস্টুরেন্টে আরজে, ঈশানি আর রওনাক একদম কর্নারের সাইটের একটা টেবিলে বসে। যেখানে তাদের একদম দেখাই যাচ্ছে না। আরজে মুখে মাক্স দিয়ে বসে আছে, সে নাকি খাবেনা। ঈশানী রওনাকের দিকে ফিরে কিছু একটা ইশারা করতেই সে কল এটেন্ড করার কথা বলে বাইরের দিকে চলে যায়। অন্যদিকে সানা আর এসপি, আরজে আর ঈশানীর বিপরীত কর্নারে বসে। এসপি সামনের দিকে তাকাতেই আরজের উপর তার দৃষ্টি পড়ে। সে মুহূর্তেই চিনে ফেলে এটা সানার হাসবেন্ড, সে সানার দিকে তাকিয়ে বলে,
-"এই কটকটি দেখ দেখ, তোর না হওয়া রাজা বিজয়, মানে তোর না হওয়া এক্স হাসবেন্ড সামনে একটা মেয়ের সাথে রেস্টুরেন্টে বসে আছে।"
সানা ভ্রু কুচকে তার দিকে তাকিয়ে, পেছনের দিকে তাকায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই আরজে ও সামনের দিকে তাকায় কিছু সেকেন্ডের জন্য দুজনের দৃষ্টি মিলে। চোখাচোখি হয়, সানা সাথে সাথে দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে, সামনের দিকে তাকায়। কিন্তু আরজের সন্দেহ হয়, তার মনে হচ্ছে সে সানাকে দেখেছে। কিন্তু তারপর আবার ভাবছে, সানা এখানে কিভাবে আসবে। নিশ্চয়ই সে ভুল দেখেছে। সে আবারও সামনের দিকে তাকায়। ওই মেয়েটিকে দেখছে, দূর থেকে লক্ষ্য করছে।দেখতে কিছুটা সানার মতই লাগছে। তার সন্দেহ মিথ্যা প্রমাণ করতে নিজের মনের সাথে লড়াই করে, অবশেষে বাধ্য হয়ে ওঠে আসে কনফার্ম হতে। তার মুখে মাক্স থাকার কারণে কেউই তাকে ঠিক ভাবে চিনতে পারে না।
সানা এসপি কে বলে,
-"এই কালনাগিনী আর জাওরা এইখানে কি করছে, এদের তো শুটে থাকার কথা।"
-" মনে হচ্ছে তোর জামাই....
এই বলে সে সামনের দিকে তাকাতেই দেখে সানা তার দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে, সে ঢোক গিলে বাকি কথা ফেলে টেনে টেনে বলে,
-"তোর না হওয়া এক্স হাসবেন্ড ডেইটে এসেছে মনে হয়, তুই কিছু বলবি না"
সানার সোজাসাপ্টা জবাব,
-"সে ডেটে যাক আর নরকে যাক আমার কি"
কিন্তু ততক্ষণে আরজে তাদের টেবিলের কাছাকাছি চলে আসে। এসপি তাকে দেখে চোখ বড় বড় করে সানাকে ইশারা করে, সানা তাড়াতাড়ি এক হাত দিয়ে নিজের মুখ আরজের সাইটের দিকটা ঢেকে পেলে। আরজে তাদের সামনে এসে সানাকে উদ্দেশ্য করে বলে"
-"এক্সকিউজ মি "
কিন্তু সানার থেকে উত্তর না এসে, জবাব আসে এসপির থেকে,
-"এক্সকিউজ মি, কিছু বলবেন?"
আরজে পূর্ণ দৃষ্টি সানার দিকে ফেলে শুধালো,
-"একচুয়ালি আমার এমন মনে হলো আমি এইখানে আমার ওয়া.....
সে হঠাৎ থেমে যায় কিছুটা দ্বিধা দ্বন্দ্বের সাথে মনে মনে ভাবে তার আর সানার বিয়ের কথা গুটিকয়েক লোক ছাড়া আর কেউই জানে না।এখানে তা বলাও ঠিক হবেনা। তাই সে দ্বিধা দ্বন্দ্ব নিয়েই ফের বলে,
-"আমি আমার চিনা জানা একজন কে দেখেছিলাম।"
এসপি সাথে সাথে বলে,
-"আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে আমি তো আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে এসেছি।"
কিন্তু আজজের সন্দেহ যায় না। সে তারপরেও সানার দিকে ফিরে স্থির কন্ঠে বলে,
-"হ্যালো আ'ম আরজে, "
সানা এখনো মুখের থেকে হাত সরাইনি, সে এক সাইডে হাত দিয়ে রেখেছে। সানা রিনরিনে কন্ঠে জবাব দেয়,
-"হ্যালো"
কিন্তু তার মুখ থেকে হাত না সরাতে দেখে আরজে আবার ও বলে,
-"আমি আপনাকে কোথাও দেখেছি, can i see your face? "
সানা তাৎক্ষণিক জবাব দে,
-"জি না"
আরজে কিছুটা বিস্মিত হয়ে বলে,
-"কেন?"
সানা কি বলবে ভেবে না পেয়ে তাড়াতাড়ি বলে,
-" আমি মেকআপ ছাড়া কাউকে নিজের ফেস দেখাই না।
আরজে আর কিছু বলবে তার আগেই সানা এসপি কে চোখের ইশারায় কিছু বলে। সেটার অর্থ এক মুহূর্তে ধরে ফেলে এসপি। সে দাঁড়িয়ে আরজের হাত ধরে জোরে জোরে বলতে শুরু করে,
-"ও.....মাই..... গড, দ্য গ্রেট রানভীর জাওয়ান, হোয়াট এ লাকি ডে ফর মি।"
মুহূর্তে রেস্টুরেন্টের সবার দৃষ্টি তার দিকে পড়ে। ঈশানী এতক্ষণ ধরে আরজের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে কি করছে বুঝতে পারছিল না। যখনই দেখেছে সবাই আরজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই সেও এগিয়ে আসে। কিন্তু ততক্ষণে আরজের চারপাশে হুলুস্তুর ভাবে ভিড় বেঁধে যায়। একমুহূর্তে আরজে ভড়কে যায়। একেতো তার এই সব ভিড়, জনমানব একদম পছন্দ না তার ওপর কোন সিকিউরিটি নাই তার সাথে। সবাই তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।কেউ অটোগ্রাফ দিতে বলে তো কেউ সেলফি নিতে ব্যস্ত। এদিক ওদিক থেকে তাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়ে যায়।সে একা কাউকেই থামাতে পারে না।আরজে ফ্যানদের সামনে অলওয়েজ শান্ত, বন্ধুত্বপূর্ণ ও ক্লিন ইমেজ রেখেছে। যার জন্য সে অতি দ্রুত পপুলারিটিও পেয়েছে। তাই সে পাবলিকেলি কোন সিনক্রিয়েট করতে চাচ্ছেনা। এসপি আর সানা এই সুযোগে বেরিয়ে পড়ে। রানভীর সানার একসাইট দেখে কিছুটা চিনে ফেলে। তারপর ও নিশ্চিত হতে পারেনি। বেরোতেই এসপির নজরে আসে ঈশানী, সে সানা কে উদ্দেশ্য করে বলে,
-"ঐ দেখ পেস্ট্রি তোর কালনাগিনী"
-"তো"
-"তো মানে কি?ধাক্কা মার"
এসপি বলতে দেরি, সানার ধাক্কা দিতে দেরি করেনি। ঠাস করে পিছন থেকে এক ধাক্কা আর ধড়াম করে ঈশানী নিচে পড়ে যায়। সবাই আরজে কে নিয়ে ব্যস্ত, কেউ তার দিকে ফিরে ও তাকাচ্ছে না। মানুষের ধাক্কাধাক্কিতে ঈশানী আরো বেশি ব্যথা পায়।আরজে বুঝে উঠতে পারলো না, মুহূর্তে কি থেকে কি হয়ে গেল। এত ভিড় দেখে রিসোর্ট কমিউনিটির কিছু লোক এগিয়ে আসে এবং আরজে কে লোকদের থেকে সরিয়ে আনে। রওনাক ঐমুহূর্তে রিসোর্টে ঢুকে বাকরুদ্ধ হয়ে পরে। সামনেই দুজনের অবস্থা খারাপ। আরজে কে বাহিরে নিয়ে যাওয়া হলেও ঈশানী এখনো নিচে পরে আছে। সে দ্রুত এসে ঈশানীকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
আরজে পার্কিংলটে এসে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়ে। রাগে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে।এতটুকু একটা পুচকে ছেলের জন্য তার নাজেহাল অবস্থা হয়েছে।আর যদি ওটা সত্যি সানা হয়, সে সানাকে ছাড়বে না।সাথের ওই ছেলেটাকেও ছাড়বে না। সে জোরে জোরে চিৎকার করে বলতে থাকে,
-"ইডিয়েটের বাচ্ছা আমি তোকে ছাড়বো না। একবার শুধু সামনে পাই। এইটুকু একটা ছেলের জন্য আজকে আমার এই অবস্থা।"
সে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে তার পোশাকের অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছে ফ্যানদের টানাটানিতে। সে একটা হাতেও ব্যথা পেয়েছে একটু। রাগে তার চোখ লাল হয়ে গিয়েছে। আরজে জোরে জোরে কয়েকটা থাবা বসিয়ে দিল গাড়িতে। তারপর ও তার রাগ কমছে না। এই রাগটাই সে কারো সামনে আনতে চায় না, তাই এত সংবরণ। আরজে নিজের চুল নিজেই টেনে ধরে। নাহ এখানে থাকলে তার রাগ কমবে না, আরজে ঈশানীকে ফেলেই গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
______________
সানা আর এসপি গাড়িতে বসে দুজনের হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ। সানা পেটে ধরে হাসছে আর বলছে,
-"ওই কালনাগিনী কে আমি ধাক্কা মেরে পৃথিবীর বাইরে পাঠাবো। তার পিছন দিয়ে ওই জাউরা কে রোনাল্ডোর মতো একটা কিক্ মেরে মঙ্গল গ্রহে পাঠাবো। "
এস পি আর সানা আরো কতক্ষণ হাসে, শেষে এসপি জিজ্ঞেস করে,
-"তুই চাইলে তো আজকেই আরজের সামনে যেতে পারতি। তাহলে কেন এত লুকোচুরি।"
-"তুই বুঝতে পারছিস না ইয়ার, ওরা খুবই ক্ষমতাবান ওদের সাথে লড়তে গেলে আমার গোড়া শক্ত হতে হবে। যাতে ওরা ইট মারলে আমি ওদের ঠিক সেই লেভেলের পাটকেলটাও মারতে পারি।"
-"তাহলে তুই কি করবি এখন,"
-"জাস্ট আমি নিজেকে আয়নার মতো বানাব, যে যেমন ব্যবহার করবে ঠিক তেমন রিফ্লেকশন পাবে"
-"ভয় পাবি নাতো"
-"ভয় তারাই পায় যাদের হারানোর কিছু থাকে। আমার কিছুই নেই।শুধু একটু ক্ষমতা দরকার ওদের সবটা কেড়ে নেওয়ার জন্য। ততদিনে ঐ রানভীরের একটু ক্লাস নেওয়া যাক।"
এসপি তাকে উৎসাহ দিয়ে বলে,
-"দ্যাটস লাইক মাই গার্ল।"
গাড়ি থামে গুলশানে, সানার ফ্ল্যাটের সামনে। সানা নেমে পড়ে। যাওয়ার সময় এসপি আবারও বলে,
-"সানা তুই আরজের ব্যাপারে পুরোপুরিভাবে শিওর তো"
সানা এসপির কালো চশমা টা তার চোখ থেকে খুলে নিয়ে ফু দিয়ে পড়তে পড়তে বলে,
-"যখন বিষয়টা সেল্ফ রেসপেক্টের তখন সানা খান হাজারটা রানভীর জাওয়ানকে পা মারিয়ে চলে আসতে একবারও ভাববে না।"
____________
রাত দশটার দিকে আরজে বাড়ি ফিরে। ঢুকতেই তার চোখ ছানাবড়া সামনের দৃশ্য দেখে। সানা হাই ভলিউমে মটু পাতলু দেখছে।সোফায় বসে পা দুটো টি টেবিল এর উপরে। সে সানার কাছে যায়,
-"সানা ভলিউম লো করো"
কিন্তু সানা কোন দিকে না তাকিয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে। সে আবারো বলে,
-"সাউন্ড কম করো"
সানা এবারও কিছু বলে না।এবার রাগ হয় আরজের সে ছো মেরে সানার হাত থেকে রিমোট নিয়ে টিভি অফ করে দে। সানা বিরক্তি নিয়ে নিজের মোবাইল ঘাটা শুরু করে।আরজে একটা ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়ে,রেস্টুরেন্টের কথা মনে পরতেই সানাকে জিজ্ঞেস করে,
-"আজ তুমি কোথাও গিয়েছিলে?"
সানা পরক্ষনেই না তাকিয়ে বলে,
-"কেন আমার কোথাও যাওয়া নিষেধ নাকি?"
-"আমি সেটা বলতে চাইনি। জাস্ট তুমি কোথাও"
আর কিছু বলার আগে নজরে আসলো সানা মোবাইলে কাউকে মেসেজ করছে আর হাসছে। মুহূর্তে আরজের মাথায় রাগ চড়ে গেলো। একেতো সানা হেয়ালিপনা করছে তারউপর কারো সাথে কথাও বলছে। এবার আরজে রাগী স্বরে চিৎকার করে ওঠল,
-"সানা... তুমি কিন্তু বেশি....
তার থেকে দ্বিগুণ তেজ নিয়ে সানার গলা ভেসে এলো,
-"Don't dare to shout on me,
don't be dare Mr. Ranbir jaowan"
___________________
সানা ঘুম থেকে উঠে সিড়ি দিয়ে নিচে আসতে দেখে ঈশানী খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেঁটে আসছে। কাল সে নিজেই জোরে ধাক্কা মেরেছিল। কিছু একটা ভেবে তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি খেলে যায়। সে ঈশানীর দিকে তাকিয়ে বলে,
-"My dear kalnagini, Sana is Coming"😁
-চলবে.....
(২৭০০+ শব্দ এইখানে। শুধু আপনাদের জন্য কষ্ট করে লিখেছি। আপনারা প্লিজ রিয়েক্ট, কমেন্ট ও ফলো দিয়ে আমার পাশে থাকবেন। এতে আমি উৎসাহিত হবো🙂
